দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত দুইটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রবিবার (১৪ জুন) থেকে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শ্রমিক সংগঠন দুটি হলো বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠন দুটির নেতারা গত বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন, যা বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
আবেদনে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখেননি। একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও কয়েক দফা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, দাবি পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবিসংবলিত আবেদনপত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে। দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ