২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রীতি অনুযায়ী জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে বাজেটটি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্মতির জন্য পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
ঘাটতি পূরণে সরকার দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব রাখা হয়েছে।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত থাকবেন।
এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। বাজেট ঘোষণার পর এটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হবে।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ