• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

১৫ দিনে একবার দেখা! অতিরিক্ত বন্দীতে লালমনিরহাট কারাগারে স্বজনদের দুর্ভোগ

খাজা রাশেদ,লালমনিরহাট / ৩৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লালমনিরহাট জেলা কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পরপর সুযোগ এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী থাকায়, স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

দেশের অধিকাংশ কারাগারের মতো লালমনিরহাট জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী রয়েছে। ফলে নিয়ম মেনে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়, এবং অনেক সময় কঠোর নিয়ম ও ভিড়ের কারণে দেখা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

কারা বিধিমালা অনুযায়ী সাক্ষাতের নিয়ম জেলা কারাগার ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাক্ষাতের নিয়মগুলো হলো—
হাজতী বিচারাধীন বন্দীদের সাথে স্বজনরা ১৫ দিনে ১ বার দেখা করতে পারেন।
কয়েদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সাথে মাসে ১ বার দেখা করার সুযোগ রয়েছে। সময় ও সদস্য: প্রতি সাক্ষাতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় এবং একসাথে সর্বোচ্চ ৫ জন দেখা করতে পারেন। বিশেষ অনুমতি: ডিটেন্যু ও সেফ হোমে থাকা বন্দীদের সাথে দেখা করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের পূর্বানুমতি লাগে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার জামাল হোসাইন জানান, “কারাগারের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা দিয়ে থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সময়সূচি মেনে চলা হচ্ছে। তবে মানবিক দিকগুলোও আমরা বিবেচনা করছি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাজতী বন্দীরা সপ্তাহে একবার মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সাথে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলতে পারেন।

খুব শীঘ্রই কারাগারে আসছে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ ভিডিওকলের সুবিধা।

কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে চালু হচ্ছে ভিডিওকলের বিশেষ সুবিধা। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভুক্তভোগী স্বজনরা সাক্ষাতের নিয়ম শিথিল এবং ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, বন্দী ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা