নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক শত বছরের পুরোনো মৃৎশিল্প। একসময় পিরোজপুর জেলার কুমারখালীসহ পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কনকদিয়া, বগা, মদনপুরা ও বিলবিলাস অঞ্চলের হাজারো পরিবার এই মাটির শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, প্লাস্টিক ও কৃত্রিম পণ্যের দাপটে ধীরে ধীরে এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসে। নিভে যেতে থাকে মাটির ভাটার আগুন, ভেঙে পড়ে বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
ঠিক এমন সংকটময় সময়ে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের “মা মৃৎশিল্প”-এর প্রোপাইটর কমল পাল, তার কাকা সুভল পাল এবং কারিগর বিষেশ্বর পাল। তাদের দূরদর্শী চিন্তা, পরিশ্রম ও আধুনিক পরিকল্পনায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই শিল্প।
বর্তমানে তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা আধুনিক মৃৎশিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার পরিবারের অন্তত ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজাইনের হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, শোপিস ও বিভিন্ন ধরনের টবসহ নানান পরিবেশবান্ধব মাটির পণ্য, যা গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক রুচিরও সমন্বয় ঘটাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও এসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় কারিগররা জানান, একসময় জীবিকার অভাবে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে কাজের সুযোগ ও তুলনামূলক ভালো পারিশ্রমিক পাওয়ায় তারা আবারও এই পেশায় ফিরে আসছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
মৃৎশিল্প উদ্যোক্তা কমল পাল বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি জিআই স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বীকৃতি পেলে এই অঞ্চলের মৃৎশিল্প আরও এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যথাযথ ঋণ সহায়তা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জিআই স্বীকৃতি পেলে এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।