• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

ইমামকে কেন্দ্র করে দুই দলে বিভক্ত ঈদগাহ, সংঘর্ষ আশঙ্কায় আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রতিবেদক / ১১ বার
আপডেট : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

রাজশাহী ২৭ মে ২০২৬।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঈদগাহের ইমামকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধে স্থানীয়রা দুই পক্ষ হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এ চাকরির পাশাপাশি মাজহারুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ঈদুল আযহার নামাজকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নামাজ শেষে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ইমামের বিরোধী ও স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ারুল ইসলাম বলেন, এখন দুইটা জামাত হবে। মোহাম্মদ উল্লাহর অনুসারীরা এক জামাতে নামাজ পড়বে, আমরা আরেক জামাতে। পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয়, সে জন্য সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতি ও ব্যক্তিগত বিষয়ক কারণে তার পিছনে আমরা নামাজ পড়ছি না। তাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থন করছে, সে আওয়ামী লীগ করতো। সে সাঈদী সাহেবের গায়েবে জানাজার নামাজ পড়তে দেয়নি।

অন্যদিকে ইমামের সমর্থক স্থানীয় বাসিন্দা প্রফেসর সানাউল্লাহ বলেন, একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা মাদ্রাসা দখলের উদ্দেশ্যে ইমামকে সরাতে চায়। অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। অধিকাংশ মুসল্লিই তার পেছনে নামাজ আদায় করতে চান।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল-মিটিংয়ে জড়িত ছিলাম না। আমি একজন ইমাম হিসেবে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছি। গত ১৫ বছর ধরে এখানে নামাজ পড়িয়ে আসছি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ আমাকে ইমাম হিসেবে চায়। প্রশাসন যদি আমাকে নামাজ পড়াতে নিষেধ করে তাহলে আমি যাব না, তবে আমাকে বাধা দিলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন দুইটি পৃথক জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গোদাগাড়ী সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য দুই পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়। পরে উপজেলায় এসেছে শেষ পর্যন্ত দুটি জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সকাল সাড়ে সাতটায় এবং অন্যটি সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।

নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে ঈদের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা