• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

প্রেমঘটিত আক্রোশে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড! রহস্য উদঘাটন,মূল আসামি গ্রেপ্তার ও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

প্রতিবেদক / ১০ বার
আপডেট : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

মোঃ আহসান হাবীব সুমন,জেলা প্রতিনিধি:

গত ১৮/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ১৬.৩০ ঘটিকায় শেরপুর সদর থানা পুলিশ কর্তৃক সংবাদ পাওয়া যায় শেরপুর সদর থানাধীন চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের জনৈক মানিক মাস্টারের বাড়ীর ১৫০ গজ উত্তর দিকে সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ পাওয়া গিয়েছে। মোঃ সাইফুল ইসলাম লোকমুখে উক্ত সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহের পরিহিত ট্রাউজার এবং জুতা দেখে মৃতদেহটি তার ছেলে আলামিনের বলে শনাক্ত করে এবং নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৩৯, তারিখ-১৯/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন| মামলাটি পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে পিবিআই, জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ)/ফয়জুর রহমান এর উপর অর্পণ করা হয়।

জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মৃতদেহটি পাওয়ার পর হতেই পিবিআই, জামালপুর ইউনিট মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে| এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় অত্র মামলার আসামী শুভ (১৯), পিতা-মোঃ উজ্জল, মাতা-হামিদা বেগম, সাং-পাথালিয়া সন্ধিক্লাব, থানা ও জেলা-জামালপুরকে ১৯/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ, বিকাল ১৭.৩০ ঘটিকার সময় শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার পর্যালোচনা, তদন্ত ও আসামীসহ সাক্ষীর ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সাথে প্রেম করে তার খালাতো ভাই শুভ। এই নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের পাশাপাশি চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়| এরই ধারাবাহিকতায় আলামিনও শুভর বোনের সাথে প্রেম করার প্রস্তাব দেয় শুভর কাছে, যাতে শুভ তার বোনের সাথে সম্পর্ক না রাখে। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। আলামিন এর বিনিময়ে শুভর বোনকে কাছে পেতে প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানের বদলা নিতে পরিকল্পনা করে| পরিকল্পনানুযায়ী আসামী শুভ তার সহযোগী আসামী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তাতে আসামী সম্রাট রাজী হয়| অতঃপর আসামী শুভ তার পরিকল্পনা মোতাবেক গত ১৩/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর অনুমান ১২.২০ ঘটিকার দিকে কৌশলে ডিসিস্ট আলামিনকে তার বন্ধু শান্ত’র মটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলের দিকে নিয়ে যায় এবং আসামী শুভ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে তার বাড়ী হতে একটি ধারালো চাকু নিয়ে যায়| উক্ত সময়ে কৌশলে আসামী শুভ আসামী সম্রাটকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে বলে| ঘটনাস্থলে তারা ০৩ জন পৌছার পর ডিসিস্ট আলামিন অমনোযোগী হয়ে মোবাইল চালাতে থাকায় সেই সুযোগে আসামী শুভ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা লাইলনের চিকন দড়ি দিয়ে পিছন থেকে ডিসিস্ট আলামিকে গলায় পেঁচিয়ে ধরে| এতে ডিসিস্ট আলামিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামী সম্রাট ডিসিস্টের মাথা ধরে রাখে| তখন আসামী শুভ তার প্যান্টের পকেটে থাকা চাকু দিয়ে ডিসিস্ট আলামিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়| আসামী শুভর তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ডিসিস্টকে ঘটনাস্থলে নেওয়ায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মামলার ঘটনাস্থল হতে তার দেখানোমতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়েছে|

আসামী শুভকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে প্রাথমিকভাবে ¯^ীকার করে এবং মামলার ঘটনার সহযোগী আসামী মোঃ সম্রাট (২০)এর নাম প্রকাশ করে| আসামী শুভ এর দেওয়ার তথ্য মোতাবেক অপর আসামী সম্রাট (২০)কে তার নিজ বাড়ী জামালপুর সদর থানাধীন পাথালিয়া সন্ধিক্লাব হতে একইদিনে ১৮.১০ ঘটিকায় গ্রেফতার করা হয়| অতঃপর আসামী শুভকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামী শুভ স্বেচ্ছায় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে| এছাড়াও অত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মোটরসাইকেল মালিক মোঃ সাঈদ আহাম্মেদ ৥ শান্ত (১৮), পিতা-রাজু আহাম্মেদ, সাং-পাথালিয়া, থানা ও জেলা-জামালপুরও ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করে|

এই বিষয়ে পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান যে, “অত্র ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে টিম প্রেরণ করি এবং মামলার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রাখি| এরই ধারাবাহিকতায় অত্র ইউনিটের সদস্যদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব প্রদান করে সার্বক্ষণিকভাবে তাদের কার্যক্রম তদারকি করি| সর্বপরি অত্র ইউনিটের আভিযানিক দলের কঠোর পরিশ্রমের অংশ হিসেবে অত্র মামলার মূল রহস্য এত দ্রুত সময়ে উদঘাটন করা সম্ভব হয়,মামলাটির তদন্ত চলমান আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা