নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির পরিচিত প্রাণী দুম্বা এবার বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন হচ্ছে উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়। প্রত্যন্ত গ্রামে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন এনজিও কর্মী জাহিদ হাসান ও তাঁর পরিবার। শখের বশে শুরু করা দুম্বা পালন এখন তাঁকে সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের দড়িজামালপুর গ্রামে গড়ে তোলা এই খামারে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে দুম্বা পালন করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে।
উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান জানান, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে একটি দুম্বার খামার দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। এরপর ২০২২ সালে ভারতের রাজস্থান থেকে তুকি ও আউয়াচি জাতের তিনটি দুম্বা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও দু’টি যুক্ত হয়ে খামারে মোট পাঁচটি দুম্বা দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এখন খামারে ১০টিরও বেশি দুম্বা রয়েছে।
তিনি জানান, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে খামারের প্রতিটি দুম্বার ওজন ৯০ থেকে ১০০ কেজির বেশি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামার দেখতে ভিড় করছেন।
খামারে দুম্বাগুলোকে প্রতিদিন দুই বেলা ভুষি, খৈল, খড় এবং নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয়। সাধারণ গরুর মতোই সহজভাবে এসব প্রাণী পালন করা সম্ভব বলে জানান খামার কর্তৃপক্ষ।
শুরুটা শখের হলেও এখন এটি বড় আকারের বাণিজ্যিক খামারে রূপ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের খামারের বেশ কয়েকটি দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করছি এবার কোরবানির বাজারে এগুলো চমক দেখাবে।”
খামার পরিদর্শনে গিয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। পরিকল্পিতভাবে দুম্বা পালন একটি লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারে এবং এটি বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দুম্বা পালন করলে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। জাহিদের খামার দেখে অনেকেই এখন পরামর্শ নিতে আসছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে সরকারি সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সব মিলিয়ে কোরবানির বাজারে এবার নতুন আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসছে সাদুল্লাপুরের ‘মরুর দুম্বা’ খামার।