নদী ও জীবন
— খালিদ রিয়াজ
শান্ত কোনো বিকেলের শেষে যখন একা বসে থাকি,
স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে সেই রূপালি নদীর ছবি
যেই নদীটির বুকে লেগে থাকতো সোনালি রোদের টিপ,
আর তার স্রোতের কলতানে মিশে থাকতো অদ্ভুত এক মায়া।
জীবনটাও তো ঠিক সেই বহমান নদীর মতোই চঞ্চল,
কখনো প্লাবনে ভাসিয়ে নেয় মনের সাজানো ঘরবাড়ি,
আবার কখনো শান্ত চরে পলি জমিয়ে দেয় নতুন কোনো আশা।
নদীর কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, সে কেবল বয়ে চলাই জানে।
ক্ষণে ক্ষণে হারিয়ে যাই দূর দেশেতে
ভাটির টানে
আমরা তো মাঝির মতো, এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে জমাই পাড়ি
আবার কখনো কালবৈশাখীর ঝাপটায় দিশেহারা হয় জীবনের তরী।
তবুও নদীর বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকে বেঁচে থাকার আসল স্বাদ।
শহরের এই যান্ত্রিক ধুলোয় বসে যখন চোখ বুজি,
স্পষ্ট শুনতে পাই সেই খালের ওপারের ঝাউবনের দীর্ঘশ্বাস,
আর ছোট ডিঙি নৌকার বৈঠার শব্দে ভেঙে যাওয়া নীরবতা
নদী মানে তো কেবল জল নয়, নদী মানে আমাদের অস্তিত্ব গাথা
এই প্রবহমান জীবনধারায় কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসি,
কখনো হারাই কাছের মানুষ, কখনো খুঁজে পাই নতুন সুহাসী
সময়ের বালুচরে আমাদের পায়ের চিহ্ন হয়তো মুছে যায় দ্রুত,
কিন্তু বুকের গহীনে নদীর মতো ভালোবাসা বয়ে চলে অবিরত
হে নদী, তুমি শিখিয়েছ কীভাবে সমস্ত আঘাত সয়ে নিতে হয়,
কীভাবে কূল ভেঙে আবার নতুন করে কূল গড়তে হয়।
জীবন আর নদী তাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে আজ
তোর স্রোতের মতোই আমার স্বপ্নগুলো আজ দিগন্তের সাজ
যত দূরেই যাই না কেন, নদীর সেই শীতল স্পর্শ মনে পড়ে,
মনে পড়ে গ্রামবাংলার সেই মেঠো পথ
নদীর এপাড় ভাঙে ওপাড় গড়ে
বুকভরা তৃষ্ণা নিয়ে আমি ফিরে আসি বারবার তোমার কাছে
কারণ আমার জীবনের সবটুকু আনন্দ তোমাকেই ঘিরে বাঁচে
