• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

মিড-ডে মিলে অনিয়ম বরদাস্ত নয়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান ববি হাজ্জাজের

প্রতিবেদক / ১৯ বার
আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

​স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের মান ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখবে।

​গতকাল রোববার রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সবার জন্য বিব্রতকর হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যবসার নামে শিশুদের খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।

যারা সঠিকভাবে শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, ভবিষ্যতে তারা এই কার্যক্রমে আর যুক্ত থাকতে পারবেন না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

​এদিকে বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই থাকুক না কেন, ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর তার একমাত্র পরিচয় হতে হবে ‘শিক্ষক’।

​পেশাগত জায়গায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে নিজের ১৭ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা জীবনের উদাহরণ টেনে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমি নিজে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের মধ্যে ১০ বছর সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু কোনোদিন কোনো ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করিনি। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যখন রাজনীতি করেন, তখন অনেক সময় এই সীমারেখাটি বজায় থাকে না।”

​সাংবাদিক ও শিক্ষকদের কাজের ধরনের তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষক ও সাংবাদিক উভয়কেই সমাজে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করতে হয়। তাই শিক্ষকদের যেমন ক্লাসরুমে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, ঠিক তেমনি সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের সময় ব্যক্তিগত আবেগ ভুলে সম্পূর্ণ যুক্তিনির্ভর ও ফ্যাক্ট-বেসড রিপোর্টিং করা উচিত।

​ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ জসিম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা