কুরবানির গরু
খালিদ রিয়াজ 306
আকাশের কোণে জিলহজের ওই চাঁদ উঠেছে মিষ্টি হেসে,
কুরবানির এই খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
শহর জুড়ে বসেছে আজ পশুর হাটের চেনা মেলা,
ঝলমলে সব আলোয় ঘেরা রাত কেটে যায়, কাটে বেলা।
হাটের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখি কত রঙের গরুর সারি,
কারও পছন্দ কালো মানিক, কেউ বা খোঁজে লাল পাহাড়ি।
উঁচু কুঁজ আর ধারালো শিং, রাজকীয় তার হাঁটার ঢং,
ব্যাপারীদের হাঁকডাকে আজ বদলে গেছে হাটের রঙ।
দামাদামির তুমুল ঝড়, হাজারো মানুষের কোলাহল,
পছন্দের ওই পশু নিতে সবার মনেই কৌতূহল।
অবশেষে এক তাগড়া গরু যখন আসে নিজের ঘরে,
চারপাশের সব ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভিড় করে।
যত্ন করে খাওয়ানো তাকে সবুজ ঘাস আর তাজা খড়,
কয়েক দিনেই মায়ায় জড়ায়, থাকে না সে তো আর পর।
গলায় তাহার পরিয়ে দেওয়া রঙিন মালা, লাল ফিতে,
সবাই মিলে আনন্দ পায় নতুন এক রূপ দিতে।
কুরবানি তো শুধু কেবল পশু জবাই করার নাম নয়,
নিজের ভেতরের অহংকারকে বিলিয়ে দেওয়াই আসল পরিচয়
মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা হিংসা-বিদ্বেষ করতে দূর,
ত্যাগের মহিমায় বেজে ওঠে খুশির এক নতুন সুর।
ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া এই দিনে,
খুশির ছোঁয়া লাগুক আজ প্রতিটি মানুষের মনে।
মায়ার পশু বিদায় দিতে বুকটা কেমন কেঁদে ওঠে,
ত্যাগের চাদর জড়িয়ে তবেই হাসির রেখা মুখে ফোটে।
ঈদের দিনের সকাল বেলা নতুন জামার সুবাস গায়ে,
সবাই মিলে নামাজ শেষে ফিরি মোরা চেনা পায়ে।
আজকের এই সুন্দর রাত, কুরবানির এই মধুর ক্ষণ,
সবার মনে জাগিয়ে দিক পবিত্র এক আবাহন।
পঙ্ক্তিগুলো আবৃত্তি করে ছড়িয়ে দাও ত্যাগের গান,
খুশিতে মেতে উঠুক আজ প্রতিটি কোণের নর-নারী ও আবালবৃদ্ধবনিতা প্রাণ।