নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাড়ি, বাস কিংবা লঞ্চে উঠলেই অনেকের মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা তীব্র অস্বস্তি শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় মোশন সিকনেস। এটি মূলত শরীরের ভারসাম্য ব্যবস্থার সঙ্গে চোখ ও মস্তিষ্কের সংকেতের অসামঞ্জস্য থেকে তৈরি হয়।
যখন যানবাহন চলতে থাকে, শরীর এক ধরনের গতির অনুভূতি পায়, কিন্তু চোখ অনেক সময় স্থির কিছু দেখে—এই দ্বন্দ্বই মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যার ফলেই বমিভাব, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তি দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
যাত্রার আগে হালকা খাবার খান খালি পেটে ভ্রমণ করলে অনেক সময় বমিভাব বেড়ে যায়। আবার অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই ভালো—যেমন কলা, বিস্কুট, রুটি বা অল্প ভাত। তেল-ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
সামনে বা জানালার পাশের আসন বেছে নিন
বাসে সামনের দিকের সিটে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম লাগে। তাই সম্ভব হলে সামনে বা জানালার পাশের আসনে বসা ভালো। বাইরে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক চলাচলের সঙ্গে সহজে সমন্বয় করতে পারে, ফলে অস্বস্তি কমে।
মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলুন
ভ্রমণের সময় মোবাইল দেখা বা বই পড়া মোশন সিকনেস বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ চোখ স্থির কোনো জিনিসে থাকলেও শরীর চলতে থাকে। এতে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। এর বদলে দূরের কোনো স্থির দৃশ্যের দিকে তাকানো ভালো।
সতেজ বাতাসে থাকার চেষ্টা করুন
বন্ধ ও গরম পরিবেশে অস্বস্তি দ্রুত বাড়ে। তাই জানালার পাশে বসা, জানালা খুলে রাখা বা ঠান্ডা বাতাসে থাকার চেষ্টা করা উপকারী। প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ মুছলেও কিছুটা আরাম পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক কিছু উপায়
আদা বমিভাব কমাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যাত্রার আগে অল্প আদা খাওয়া বা আদা চা পান করা উপকারী হতে পারে। লেবুর গন্ধ বা রসও অনেকের ক্ষেত্রে আরাম দেয়। আবার কারও কারও জন্য পুদিনাপাতার গন্ধও স্বস্তিদায়ক।
সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ
যদি প্রায়ই ভ্রমণের সময় তীব্র বমিভাব হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের আগে।