দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় একটি দাখিল মাদরাসায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগে মাদরাসার সুপার মো. মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং মাদরাসার সুপার মো. মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মো. শাকিল বাবু, মো. মিনহাজ উদ্দিন, মো. রাশেদুজ্জামান লিফাত এবং মোছা. মোন্তানা আক্তার মিতু বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যথাক্রমে নিরাপত্তাকর্মী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে চাকরিতে যোগদান ও ভবিষ্যতে এমপিওভুক্তিতে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাদরাসা মাঠ থেকে দুই প্রার্থীকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে লোহার রড প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের কাছে অর্থ প্রদান করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাকিল বাবু ৮ লাখ টাকা, মিনহাজ উদ্দিন ৬ লাখ টাকা, রাশেদুজ্জামান লিফাত ১০ লাখ টাকা এবং মোন্তানা আক্তারের পক্ষে তার স্বামী দুই দফায় মোট ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এরপরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও এমপিওভুক্তি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা হাকিমপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, মামলার দ্বিতীয় আসামি মাদরাসা সুপার মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রথম আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ