• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৫ দিনেই চার্জশিট, উঠে এলো লোমহর্ষক তথ্য

প্রতিবেদক / ১১ বার
আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

​রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
​চার্জশিটে মূল আসামি অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধ আড়াল ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার দম্পতি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলে বাসাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেয় এবং বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর নৃশংসতার চরম পর্যায়ে, মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে শিশুটির মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথাটি রাখা হয় একটি বড় বালতির ভেতরে।

​ঘটনার পর রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং প্রতিবেশীদের জড়ো করে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালান। এ সময় বাইরে হট্টগোল ও দরজা ভাঙার শব্দ শুনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরের ভেতরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় এবং খাটের নিচে থাকা লাশ দেখেও তা গোপন করে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। তখন স্বপ্না মিথ্যা তথ্য দিয়ে লোকজনকে জানায় যে, সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে।

​উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ওই ফ্ল্যাট থেকে রামিসার লাশ উদ্ধারের পরপরই ঘর থেকে স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন। গত শনিবার (২৩ মে) সিআইডি কর্তৃক রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের পরদিনই পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট জমা দিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা