• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

এআই নজরদারিতে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলেও অটোরিকশা এখন ‘মুখ্য বাধা’

প্রতিবেদক / ২০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ঢাকার প্রধান ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল এখন অনেকটাই ট্রাফিক আইন মেনে চলছে। সিগন্যাল অমান্য ও স্টপলাইনের বাইরে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থায় দুই হাজারের বেশি ডিজিটাল মামলা রেকর্ড হয়েছে।

গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় ৩৬০ ডিগ্রি পিটিজেড ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। কোনো যানবাহন আইন ভাঙলেই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ডিএমপির সার্ভারে পাঠাচ্ছে। পরে টেকনিক্যাল ইউনিট যাচাই করে মামলা ইস্যু করছে।

তবে এই আধুনিক ব্যবস্থার মধ্যেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন বা নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে এআই ক্যামেরার নজরদারিতেও তারা অনেকাংশে বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ভাষায়, অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এখন রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। উল্টো পথে চলা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নিয়ম না মানার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বাসচালকদের অভিযোগ, সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অটোরিকশা হঠাৎ সামনে চলে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো ঢাকা এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে না এলে সড়কে পূর্ণ শৃঙ্খলা আনা কঠিন হবে। তাই ঈদের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ডিএমপির সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এই প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, আইনি কাঠামোর বাইরে থাকা অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পুরো উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা