• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও কর স্থিতিশীলতার দাবি ব্যবসায়ীদের শর্তসাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগের গুঞ্জন, তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা মমতা ঘিরে ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহে কানাডার ভূমিকা ঘিরে উত্তেজনা হিলিতে চাকরি বিক্রির অভিযোগে মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার ইসলামের সঠিক আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে: মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ‘রইদ’ পৌঁছে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ৫০ শহরে ওয়াকা ওয়াকা’র পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা শাকিব খানের শেখানো নীরবতার নীতি মানেন বুবলী, সময় মতোই দিলেন সুখবর দুই শ্রমিক সংগঠনের কর্মবিরতিতে স্থবিরতার মুখে বেনাপোল বন্দর এআই-নির্ভর পুলিশের নজরদারিতে নতুন ধাপ

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তীব্র জনবল সংকট: ভেঙে পড়ছে চিকিৎসা সেবা

প্রতিবেদক / ২ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কার্যত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে ৫৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বিশেষ করে মেডিসিন, কার্ডিওলজি, সার্জারি, শিশু, গাইনি, চর্ম ও যৌন, অর্থপেডিক, ইএনটি, অ্যানেসথেসিয়া, ফরেনসিক মেডিসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে কোনো নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই বললেই চলে।

এর ফলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক জটিল রোগীর ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ফরিদপুর, ঢাকা কিংবা অন্যান্য বড় হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, অনুমোদিত পদ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ পদ শূন্য। সম্প্রতি কিছু মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হলেও তারা এখনো যোগদান না করায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসককে দিয়ে বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালটিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ওয়ার্ড বয়, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর একাধিক পদ শূন্য থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ড এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এত বেশি যে এক চিকিৎসককে একসঙ্গে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে। এতে সেবার মান কমে যাচ্ছে এবং চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন জানান, প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, কৃষক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক মাত্র একজন, যিনি শিগগিরই অবসরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একাধিক এক্স-রে মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে সেবা কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, শূন্য পদ পূরণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্প্রতি কিছু পদায়ন করা হলেও তারা এখনো যোগদান না করায় সমস্যা থেকেই গেছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজ দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবা ব্যবস্থা উন্নত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জেলার সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে আরও বঞ্চিত হবে।

বাংলাদেশ নিউজ টুডে / এস.এ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা