সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে পোষা ছাগল নিখোঁজের পুরোনো ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার এ ঘটনায় মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, আসিফ নজরুলের দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী এসব কথা বলেন। এর আগে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন তিনি।
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে। তার মতে, দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল। একটি ছাগল বাদ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তিনি ধিক্কার জানান। একইসঙ্গে আসিফ নজরুলকে খুব ভালো মানুষ নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন করতেন এবং এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো সেখানে পুলিশের নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল। ছাগল চুরি করে খাওয়ার ঘটনায় তাকে ফ্রেমিং করা হচ্ছে—এমন দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, কারা ছাগল চুরি করে খেয়েছে এবং কী খেয়েছে, তা তিনি দেখেছেন। সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খাওয়ার কথা বলেন তিনি।
এর আগে আসিফ নজরুল একটি টকশোতে তাঁর ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকার কারণে সাড়ে নয় বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়েটির সঙ্গে ছাগলটির গভীর সখ্য গড়ে ওঠে। মেয়ের স্কুলে যাওয়া-আসার সঙ্গেও প্রাণীটির একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
আসিফ নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাগলটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কান্নার সময় বমি করে ফেলা এবং প্রায় দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও মূলত মজা করার উদ্দেশ্যেই প্রাণীটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি নির্মম ও অমানবিক বলে আখ্যা দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজের ঘটনা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নতুন মন্তব্যে ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।