আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পরও বৃহস্পতিবার মূল্যবান ধাতুটির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ফেডের নতুন সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ সুদহার পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করায় স্বর্ণের বাজারে এই উত্থান হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২৯৫ দশমিক ২৬ ডলারে ওঠে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের পর বৃহস্পতিবার বাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর সরবরাহের স্বর্ণের ফিউচার দরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এদিন ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ স্পট বাজারে দাম বাড়লেও ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দর কমেছে।
এদিকে সউদী আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতেও এতে কিছুটা ছেদ পড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, স্বর্ণের দামের জন্য তেলের বাজার এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেলের দাম কমার ধারায় থাকলে মধ্যমেয়াদে তা স্বর্ণের দামে সহায়ক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত স্বর্ণের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধিতে বাজারের কারিগরি পরিস্থিতিরও ভূমিকা রয়েছে।
সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদহার বাড়লে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ সুদ থেকে আয় পাওয়া সম্পদ তখন বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে এবার ফেডের সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারে আগেই অনেকটা প্রতিফলিত হওয়ায় সুদহার বাড়ার পরও স্বর্ণের দামে উল্টো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়িয়ে নীতিগত সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এটি প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
ফেডের সর্বশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জন চলতি বছরের শেষ নাগাদ অন্তত আরও একবার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বাকি দুজন বর্তমান সুদহার বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এসব পূর্বাভাস ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নয়; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ফেড নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
সুদহার বৃদ্ধির পর মার্কিন ডলারের দামও বেড়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, ডলার সূচক সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে এবং দুই বছর মেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদও বেড়েছে। সাধারণত শক্তিশালী ডলার ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করে। তবে তেলের দাম কমা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের চাহিদাকে কিছুটা সমর্থন দিচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে নীতি কঠোর করবে কি না, তা নিয়েও বাজারে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বড় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।