হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
স্বামী ,শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে মেয়ের মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই শোকে বাবার মৃত্যু। নিহত সাজিদার পিতা কেরামত আলী মোল্লা শোকে কাতর হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রবিবার দুপুরে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে বাড়িতে ফিরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামে স্বামী শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্মম নির্যাতন করে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ সাজিদাকে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় নিহত গৃহবধূ ভাই আব্দুল খালেক বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। বাদীর বক্তব্য ৫ জনের নামে এজাহার দিলেও ৩ জনকে বাদ দিয়ে দু,জনের নামে মামলার হওয়ার ক্ষোভে থানা পুলিশের নামে সংবাদ সম্মেলন করে। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কেরামত মোল্লার মেয়ে সাজিদার সঙ্গে কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডিতলা গ্রামের গফুর গাজীর পুত্র মনিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ১০ বছর আগে পরিবারের অমতে বিবাহ করে। বিবাহের পর হতে কেরামত আলী মোল্লা ওরফে কেনা তাদের বিয়ে মেনে না নেওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় তার মেয়েকে মারপিট নির্যাতন করত। বিয়ের পরে তাদের সংসারে দু,টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সাজিদা নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। শুক্রবার রাতে মেয়ে অসুস্থতার খবরে বাবা কেরামত এবং পুত্র আব্দুল খালেক সহ পরিবারের লোকজন এসে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের মরা দেহ উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। ওই সময় নিহত পরিবারের দাবি তাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে মারপিট নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ৫ জনের নামে থানায় এজাহারদের দয়ের করে। পরে থানা পুলিশ এজাহার সংশোধন করে দু,জনের নামে মামলা দায়ের করা নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের দাবি স্বামী মনিরুলের ভাই সাঈদ এবং নুরুজ্জামান এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে বাড়িতে যেয়ে শোকে বাবার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।