• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

কালীগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর দখলে ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন নিরব

প্রতিবেদক / ১২ বার
আপডেট : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার ও তার স্বামী মামুনের দখলে থাকলেও প্রশাসন নিরব। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার তার স্বামী মামুনকে পাশে বসিয়ে উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করে দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ ধরে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে তুলেছে। স্বামী- স্ত্রীর গড়ে তোলা এক চ্ছএ আধিপত্য এখন অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করায় উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। যেটা ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর পরিপন্থী। এই আইনে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনী এনে সচিব পদের পরিবর্তন করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) বেলা ১০ টার দিকে সরেজমিনে অনুসন্ধানে যেয়ে দেখা যায় মথুরেশ পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার স্বামী মামুনকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে নিশ্চিন্তে অফিসের ফাইলে কাজ শুরু করে আগত সেবা প্রার্থীদের সেবা প্রদান করছেন। অফিসের কেউ বা সরকারি চাকুরীওয়ালা না হলেও বহিরাগতকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করা আইনগত সরকারি চাকরির আচরণ বিধিমালার লংঘন। অনুসন্ধানে জানা যায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার অধিকাংশ সময় অফিসে না এসেও তার পরিবর্তে বহিরাগত স্বামীকে দিয়ে অফিসের দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা গেছে। জন্ম নিবন্ধন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় দাপ্তরিক কাজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তথ্যপ্রযুক্তির (কম্পিউটারের) ওটিপি/পাসওয়ার্ড জানা এবং ব্যবহার করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান কে না জানিয়ে নিজেই চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে ওটিপি ব্যবহার করে দাপ্তরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট ও অনিয়ম করে আসছে। পরবর্তীতে কোন অপরাধ সংঘটিত বা প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানকে এর দায়ভার বহন করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের বদৌলতে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে দু.জন উদ্যোক্তা থাকলেও তার মধ্যে একজনকে ছুটি পাঠিয়ে বাকি অন্য জনকে কাজবিহীন বেকার টেবিলে বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীর আলম নামে এক উদ্যোক্তা জানান প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং তার স্বামীর দুর্ব্যবহারের জন্য আমরা অফিস করতে বা কোন কাজ করতে পারি না। শামীম মামুনকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে সমস্ত দাপ্তরিক কাজের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আয় করার অভিযোগ রয়েছে। নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক আগত এক সেবা গ্রহীতা এ প্রতিনিধিকে জানান জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেককে সরকারি নির্ধারিত ফির থেকেও বাড়তি ১/২ শত টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও বয়স কম-বেশির জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ৫০০ থেকে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্বামী মামুনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার মহৎপুর গ্রামে বাবার বাড়ির এলাকার অবসরপ্রাপ্ত এক উপ -সচিবের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদটা ইচ্ছামতন অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করে রেখেছে। এছাড়াও আগত সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে নানান ধরনের দুর্ব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তার এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এ প্রতিনিধিকে জানান পূর্বের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন থাকতে সে কাজ করে আসছে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি বিধায় সে তার স্বামীকে নিয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে অএ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তার এক আত্মীয় সাবেক সচিবের নাম ভাঙিয়ে এবং প্রভাব দেখানোয় কিছু বলার ছিল না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেও লাভ হয়নি। বর্তমান আমরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যদের নিয়ে তার বদলির জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আবেদন ও অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি আরো জানান ইউনিয়ন পরিষদে দু,জন উদ্যোক্তা থাকলেও তাদেরকে কোন কাজ না দিয়ে বেকার বানিয়ে তার স্বামীকে দিয়ে যাবতীয় কাজ করিয়ে আর্থিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার কে অপসারণ বা বদলি করে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা