• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

বালাকোট সম্মেলনে আলেমদের অভিমত: সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) ছিলেন ঈমানি জাগরণের অগ্রদূত

প্রতিবেদক / ২৫ বার
আপডেট : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

উপমহাদেশে ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা, তাযকিয়া-তাসাউফ এবং দ্বীনি জাগরণ প্রতিষ্ঠায় সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)–এর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষ পীর-মাশায়েখ ও আলেমরা। তারা বলেন, শরিয়ত ও তরিকতের সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজে যে আত্মিক ও ঈমানি চেতনার জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব–এর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শুক্রবার আয়োজিত “বালাকোট-চেতনা উজ্জীবন পরিষদ”–এর সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। শহীদে বালাকোট সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)–এর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) কেবল একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন ঈমানি চেতনার প্রাণপুরুষ, আজাদি আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার এবং মুসলিম সমাজ সংস্কারের অন্যতম পথিকৃৎ। আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও জিহাদি চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উপমহাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজে দ্বীনি শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক মূল্যবোধ পুনর্জাগরণের জন্য সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)–এর আদর্শ অনুসরণ জরুরি। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচার এবং সমাজে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জাগরণ সৃষ্টিতে আলেম-উলামাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তারা।
বালাকোট-চেতনা উজ্জীবন পরিষদ–এর সদস্য সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন পরিচালনা করেন মাওলানা নজমুল হুদা খান, মাওলানা নজীর আহমদ হেলাল ও ইমান উদ্দীন তালুকদার।
সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এ এম এম বাহাউদ্দীন, বিশিষ্ট আলেম রূহুল আমিন খান, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন–এর মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রূহুল আমীন, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা শাহ মাহমুদ সিদ্দিকী আল কুরেশি, মাওলানা মহিব্বুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা মুফতি মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পীর-মাশায়েখ ও আলেমরা।
এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মাদরাসার শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। বক্তারা বলেন, বালাকোটের আত্মত্যাগ মুসলিম ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সম্মেলনের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা