গোপাল মালাকার, সাভার।
সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের হিন্দু ভাকুর্তা ও হারুরিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই পরিত্যক্ত টায়ার ও রাবার সামগ্রী পুড়িয়ে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ফার্নেস অয়েল তৈরীর কারখানা।
বায়ুমান অতিরিক্ত দূষিত হওয়ায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ার শেড ঘোষণা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশবিদদের মতে টায়ার পোড়ানোর সময় কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং মিথেনসহ অন্তত ষোল ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধোঁয়া থেকে নির্গত কণা ও গ্যাস ওজোন স্তরেরও মারাত্বক ক্ষতি করে এছাড়াও বিষাক্ত ধোঁয়া মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ক্ষতি করে। এটি মরণব্যাধি ক্যান্সার, অ্যাজমাসহ দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
নিয়মিত টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরীর ফলে এলাকা জুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা স্থানীয়দের জীবনযাপনকে অসহনীয় করে তুলছে।
এমন মারাত্বক পরিস্থিতিতেও প্রশাসনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ডজন খানেক কারখানায় চলছে অবৈধভাবে টায়ায় পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল তৈরীর কাজ, ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে বাড়ছে বায়ূ দূষণ যার দরুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছুদিন পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে-হারুরিয়া গ্রামে অথেনটিক প্রাইওলাইসিস সহ চারটি কারখানাকে অর্থদন্ড ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়।এর বেশ কিছুদিন পরেই কারখানার মালিকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেনারেটর ব্যবহার করে পূর্বেরন্যায় রাতের আধারে তাদের এই অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে যাতে সহজেই প্রশাসনের চোখফাঁকি দেয়া যায়।
অবৈধ কারখানার বিষয়ে জানতে চাইলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তারা একবার ভাইঙ্গা যায়গা আবার আসে পয়সা দিয়া ক্যামনে কি করে তাতো আমরা কইবার পারুম না।আমরা আমাগো কথা কইবার পারুম। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এখানে বসবাস করি এই কারখানাগুলোর ক্ষতিকর ধোঁয়ার কারনে ঘর-দুয়ারে কালি ভইরা যায়গা। আমার ঘরে বাচ্চা-কাচ্চা আছে। কষ্ট অইলেও আমরা কষ্টটা প্রকাশ করতে পারি না।আমরা নিরীহ-’নিরুপায়।আমরা তো আগে জানি না যে পরিবেশটা এইরহম তাইলে এহানে বাড়ি করতাম না।
স্থায়ী কৃষক বাবুল হোসেন জানান খ্যাতের ফসল নষ্ট হওয়ায় আমি অনেক লোকসানে আছি।কয় দিন পর পর কিছু লোক আসে কারেন্ট কাইটা দেয় আবার ওরা কারখানা চালু করে।আমরা চাই সরকার স্থায়ীভাবে এই কারখানা গুলো বন্ধ করুক।
এছাড়াও অন্যান্য স্থানীয়দের অভিযোগ কিছুদিন পর পর পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসে-অর্থ জরিমানা করলেও মিলছে না কোন স্থায়ী সমাধান। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোরদাবী জানিয়ে বলেন প্রশাসন যেন পরিবেশ দূষণমুক্ত করার জন্য স্থায়ীভাব এই সকল অবৈধ কারখানা গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
অবৈধ কারখানার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের সাথে সরাসরি কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে অবৈধ ফারনেস অয়েল তৈরী কারখানা (অথেনটিক প্রাইওলাইসিস) মালিকের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
অবৈধ ফার্নেস অয়েল তৈরীর কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ পরিচালক জনাব ইলিয়াস মাহমুদ জানান অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাঁদের মোবাইলকোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও তাঁদের মনিটরিং চলমান রয়েছে।টায়ার পুরিয়ে অবৈধ কারখানার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা এবার কারখানাগুলো ভেঙ্গে নিয়মিত মামলা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।