স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরের পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড গুয়াখোলায় কোর্টের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক নুরুল হক মোল্লার ছেলে প্রবাসী রবিউল ইসলাম মোল্লার ক্রয়কৃত জমির দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মৃত হাজী আব্দুল মতিন গাজীর ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন গাজী ওরফে সুমন গাজীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসী রবিউল ইসলাম জানান, কিছুদিন পূর্বে আমার ক্রয়কৃত জমির বাউন্ডারির পশ্চিম পাশের দেওয়ালের কিছু অংশ জসিম উদ্দিন গাজী জোর করে ভেঙ্গে পেলেছে। গতকাল আমার জমির একটি অংশে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়।
তিনি আরো জানান, ৬ মার্চ ২০২৪ সালে বাদল পাল ও সুভাষ পাল থেকে ১৮৪৬ নং দলিল মূলে এবং ২১ মার্চ ২০২৪ সালে নিজ নামে ১০১২০ দাগে মোট ৩ শতাংশ জমি ১৩৭৭২ নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ জসীম উদ্দিন গাজী ওরফে সুমন গাজী জোরপূর্বক ভাবে জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রবাসী রবিউল ইসলাম মোল্লা যাদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জসিম উদ্দিন গাজী ওরফে সুমন গাজী গংদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরবর্তীতে তা আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে চাঁদপুর পৌরসভায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ভূমি সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর তৎকালীন সময়ে বিবাদী বাদল পাল ও সুভাষ পালদের পক্ষে দাবি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ জসীম উদ্দিন গাজী ওরফে সুমন গাজী গংদের পক্ষের আবেদন খারিজের সুপারিশ করে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (মিস মামলা নং ১৪৬/১৯) বাদল কৃষ্ণ পালকে সংশ্লিষ্ট ভূমির বৈধ দখলদার হিসেবে ঘোষণা করেন এবং অন্য পক্ষকে দখলে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে রায়ে উল্লেখ করেন, নালিশী ভূমিতে বর্তমান দখলকারী পক্ষ বৈধভাবে দখলে রয়েছে। ফলে বাদী পক্ষের আর কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে আদালত মন্তব্য করেন এবং মামলাটি নথিজাত করার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বাদল পাল ও সুভাষ পাল ভোগদখলে থাকিয়া জমিটি প্রবাসী রবিউল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। বর্তমানে প্রবাসী রবিউল ইসলাম মোল্লা ভোগদখলে থাকা সত্বেও মোঃ জসিম উদ্দিন গাজী ওরফে সুমন গাজী তার নিজের সুবিধার্থে জায়গা দখল করে রাস্তা তৈরীর চেষ্টা করছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ভুক্তভোগী পক্ষের অনুকূলে রায় প্রদান করেন। কিন্তু রায়ের পরও প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে প্রবেশ, সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা এবং নির্মাণকাজ চালানোর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি একজন রেমিটেন্স যুদ্ধা হিসেবে প্রশাসনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।