নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অপরাধীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এক বার্তায় জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন গ্রুপ’ আকস্মিকভাবে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। জবাবে র্যাব সদস্যরাও প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গুলিবিনিময়ের পর সন্ত্রাসীরা পিছু হঠলে যৌথবাহিনীর সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ে তাদের আস্তানায় প্রবেশ করেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে।
বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড সংলগ্ন জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি দীর্ঘ দিন ধরে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন দখল করে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এই এলাকাটি ভূমিদস্যু ও অপরাধীদের কারণে স্থানীয়দের কাছে ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত এবং তিন সদস্য আহত হন। এরপর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য একযোগে অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ওই দুর্গম এলাকায় কারাগার স্থানান্তরসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। এর আগেই ক্যাম্প লক্ষ্য করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।