নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছরের এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। উপজেলার মোক্তারপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত শাহীন মোল্লা (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটির দাদির দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা বর্তমানে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সে তার দাদা-দাদির কাছে থেকেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল। গত ২৫ মে দুপুরে এলাকায় যখন বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন প্রতিবেশী শাহীন মোল্লা তার নিজের মেয়ের সাথে খেলাধুলার অজুহাতে ওই শিশুকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, শিশুটি শাহীনের বাড়িতে যাওয়ার পর অভিযুক্ত যুবক সুকৌশলে নিজের মেয়েকে ঘরের ভেতর আটকে ফেলে। এরপর সে ভুক্তভোগী শিশুটিকে জোরপূর্বক বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত একটি টিনশেড বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে শাহীন মোল্লা শিশুটির গলা চেপে ধরে এবং নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অভিযুক্ত শাহীনের হাত থেকে তার মুঠোফোনটি মাটিতে পড়ে যায়। এই আকস্মিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চতুর শিশুটি বাথরুম থেকে বের হয়ে দ্রুত দৌড়ে নিজের বাড়িতে চলে আসে এবং তার দাদা-দাদির কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
প্রবাসী বাবার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শিশুটির বাবার সাথে মোবাইল ফোনে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাবার পরামর্শ ও সম্মতি পাওয়ার পর ২৬ মে বিকেলে শিশুটির দাদি কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার প্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত শাহীন মোল্লাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার সুনির্দিষ্ট সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।