• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে হাত-পা ভেঙে হত্যার হুমকি

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: / ৭৮ বার
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে হাত-পা ভেঙে ফেলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার।

অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম হুমায়ুন কবির। তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক ইনকিলাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির এবং তার সহযোগীরা স্থানীয় সাংবাদিক এস এম রাফি ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মো. ফয়সাল হক রকির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিল।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুুপে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। অডিও রেকর্ডে হুমায়ুন কবিরকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে উক্ত দুই সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙে দেয়া, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো এবং প্রাণনাশের চূড়ান্ত পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অডিও রেকর্ডের বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসিয়াল ই-মেইলে ডিজিটাল প্রমানক পাঠানো হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম রাফি বলেন, পিআইও অফিসের দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় হুমায়ুন কবির ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। ছড়ানো অডিওতে যেভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো ও হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে, তাতে আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল জানান, সাংবাদিকরা অনিয়ম হলে লিখবেন। এই জন্যে তাদের হুমকি দেয়া কাম্য নয়। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দাবি করছি।

অভিযুক্ত হুমায়ুন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, রাগের মাথায় বলে ফেলেছি।
চিলমারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল রহমান বলেন, বিষয়টি দেখতেছি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, সংবাদে যদি অসত্য থাকে তাহলে প্রতিবাদ দিতে পারে অথবা পত্রিকার সংশ্লিষ্ট বা সম্পাদককে জানাতে পারে৷ কিন্তু এভাবে সরাসরি হুমকি দিতে পারেনা। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এরকম হয়ে থাকলে থানায় জিডি করতে পারেন।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রুবেল মিয়া
চিলমারী, কুড়িগ্রাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা