• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

শিল্পে আজ সন্ধ্যা থেকেই স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সংকট শুরুর আগের অবস্থায় ফিরবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিত্তিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, এর কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের। এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে এগোচ্ছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এর প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা রয়েছে।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান তিনি।

তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো দেশের অর্থনীতিতে পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগেই সম্ভব হলে তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে।

তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার মধ্যে টেকসই সমন্বয়ের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় ব্যবসায়ী নেতারা শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্প-কারখানায় সংকট শুরুর আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী দিনে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের একটি পরিষ্কার রূপরেখাও সভায় তুলে ধরা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কলকারখানার উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গৃহস্থালি পর্যায়েও ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। তবে চলতি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা