দেশের ৬৪ জেলায় এইডস পরীক্ষার সেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি বা এইডসের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী সংক্রমণের বিস্তৃতি এবং ৯৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি বিবেচনায় সব জেলায় এইডস পরীক্ষা সেবা চালু করা হবে। এর আওতায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শনাক্ত হওয়া সব যক্ষ্মা রোগীর সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নিবন্ধিত নতুন ও পুনঃসংক্রমিত যক্ষ্মা রোগীদের শতভাগের এইচআইভি অবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
প্রকল্পের মেয়াদে এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়া আনুমানিক ১৭ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে ৮৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন এইচআইভি রোগীদের ৯৩ শতাংশের ভাইরাল লোড দমন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ম্যালেরিয়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে বার্ষিক আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও দাতা সংস্থার সহায়তায় যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি বা এইডস নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এসব কার্যক্রম টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তৃতীয় লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজ করছে।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. এহসানুল হক বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি বা এইডস প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিত ও টেকসই হবে। পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন-সহযোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অর্থায়নে এসব রোগের ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন-সহযোগীদের মাধ্যমে তিনটি রোগের ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে দেশীয় অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে তা ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।