স্পোর্টস ডেস্কঃ
ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা দুই তরুণ ফুটবল প্রতিভা—ফারহান আলি ওয়াহিদ ও রায়ান আলি ওয়াহিদ—এবার বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক প্রবাসী সংযোজনের ধারাবাহিকতায় এই দুই ভাইকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উদ্যোগে দীর্ঘ আলোচনার পর দুই ভাই এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
বাফুফে সহ-সভাপতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টির সূচনা হয় গত মাসে, যখন যুক্তরাজ্যের একটি ফুটবল এজেন্সির প্রতিনিধি বাফুফের অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে দুই ভাইয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি বাফুফের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছালে দ্রুতই আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে দুই ভাই, তাদের বাবা-মা এবং এজেন্সির প্রতিনিধি অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সবকিছু শোনার পর পরিবারটি দুই ভাইকে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে সম্মতি প্রদান করে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। ঈদুল আজহার পর বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ফারহান আলি ওয়াহিদ বর্তমানে ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক প্রিমিয়ার লিগ-টু পর্যায়ে ফুলহ্যাম ক্লাবে খেলছেন। বাঁ দিকের উইঙ্গার হিসেবে খেলা এই তরুণ ফুটবলার দ্রুতগতির আক্রমণ, ড্রিবলিং এবং গোল তৈরির সক্ষমতার জন্য ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন। ছোটবেলায় চেলসির যুব একাডেমিতে তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয়।
অন্যদিকে ছোট ভাই রায়ান আলি ওয়াহিদ খেলছেন ওকিং ক্লাবে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে। তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় তার পাসিং, খেলা তৈরির ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত।
বাফুফে আশা করছে, বয়সভিত্তিক দল হয়ে দ্রুতই দুই ভাইকে সিনিয়র জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচি এবং টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের অভিষেকের সম্ভাবনাও জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে প্রবাসী ফুটবলারদের দলে অন্তর্ভুক্তির ধারায় হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সামিত সোম ও ফাহমিদুল ইসলামের মতো খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন গতি এনে দেন। এবার ওয়াহিদ ব্রাদার্স সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, প্রবাসী প্রতিভাদের অন্তর্ভুক্তির এই নতুন ধারা বাংলাদেশের ফুটবলে ভবিষ্যতের জন্য বড় এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।