• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

সুদি লেনদেন বেড়ে যাওয়া কিয়ামতের আলামত

লুৎফর সিকদার-গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: / ৩০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

সুদি লেনদেন বেড়ে যাওয়া কিয়ামতের আলামত যে ঋণ ঋণদাতার জন্য কোনো ধরনের মুনাফা বয়ে আনে সেটাই রিবা বা সুদ। ইসলামে সব ধরনের সুদ হারাম।

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন।”

সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই অভিশপ্ত। সুদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নবীজি (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, যে সাক্ষী থাকে এবং যে ব্যক্তি সুদের হিসাব-নিকাশ বা সুদের চুক্তিপত্র ইত্যাদি লিখে দেয় সবার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) লানত করেছেন।

সুদখোর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা না করো (সুদের বকেয়া না ছাড়ো, সুদের কারবার অব্যাহত রাখো) তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও…।”

চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেতে স্বতন্ত্রভাবে নিষেধাজ্ঞা : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।

এ আয়াতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেতে স্বতন্ত্রভাবে নিষেধ করার কারণ হলো কোরআন নাজিল হওয়ার সময় আরবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খাওয়ার প্রথা ছিল। তাই তা দূর করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সুদখোর কিয়ামতের দিন যে অবস্থায় উঠবে : কিয়ামতের দিন সুদখোর পাগলের মতো উঠবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে। এটা এ জন্য যে তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই…।

কিয়ামতের আগে সুদের ব্যাপক প্রচলন : কিয়ামতের আগে মুসলমানদের মধ্যে সুদ গ্রহণ করা এবং সুদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, মানুষের ওপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে সম্পদ অর্জন করল, হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে।

মহানবী (সা.) আরো বলেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের আগে সুদ, ব্যভিচার ও মদপানের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।

নবী (সা.)-এর বাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অগণিত সংখ্যক মুসলমান আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অমান্য করে সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো মুসলিম দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে সুদি ব্যাংক নেই বা সুদের ব্যবসা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা