একই সময়ে ফারাআ শরণার্থীশিবির, আল-বিরেহ ও আল-মুঘাইয়ের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। হেবরনের পুরোনো শহরেও সেনারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
জালুদ গ্রামে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির সংবাদকর্মীদের একটি দল হামলার শিকার হয়। আররাবেহ এলাকায় মেভো দোতান বসতির কাছে দুজন ফিলিস্তিনিকেও মারধর করা হয়। সপ্তাহান্তজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এভাবেই চলছিল।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সহিংসতা বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে আল-মুঘাইয়েরে ২০ দিনের অবরোধের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি মানুষকে জোর করে উচ্ছেদ এবং দখলদারিত্ব বিস্তারের একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ।
এসব হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি কমাতে দেশটির রাজনীতিকেরা সমন্বিতভাবে অবস্থান নেয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুসরা ও জালুদে সংঘটিত ‘অপরাধমূলক সহিংসতার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এসব ঘটনার জন্য আইন ভঙ্গ, সেনাবাহিনীর কাজে বাধা এবং বিশ্বে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ‘কয়েকজন দাঙ্গাবাজকে’ দায়ী করেন।
তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ‘দাঙ্গাবাজদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করে’—এটি তিনি আশা করেন। তবে নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য ক্ষোভের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোশ পরা বসতি স্থাপনকারীদের খোলা পিকআপে করে কুসরা ও জালুদ গ্রামে ঢুকে হামলা চালানোর ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব দৃশ্যমান প্রমাণ এবং নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারের নির্দেশ সত্ত্বেও মোশে পিঞ্চির নেতৃত্বাধীন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পুলিশের জেলা শাখা কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও একই সুরে এসব ঘটনাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হারজগের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী পাঁচ লাখ ইসরায়েলির অধিকাংশই ‘মুষ্টিমেয় কিছু দুষ্কৃতকারীর কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত বিরক্ত’।












