• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু

প্রতিবেদক / ২৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একের পর এক হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কুসরা ও জালুদসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলায় বহু সংখ্যক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনাও। এই ঘটনার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তবে নেতানিয়াহুর নিন্দার পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বসতি স্থাপনকারীদের এসব হামলাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে বৃহত্তর বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে আড়াল করাই নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে সম্প্রতি বহু সংখ্যক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে হামলা চালায়। তারা কাঁদানে গ্যাস ও পাথর ছোড়ে। এতে সাতজন আহত হন। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সও সেসময় হামলার শিকার হয়।

একই সময়ে ফারাআ শরণার্থীশিবির, আল-বিরেহ ও আল-মুঘাইয়ের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। হেবরনের পুরোনো শহরেও সেনারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

জালুদ গ্রামে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির সংবাদকর্মীদের একটি দল হামলার শিকার হয়। আররাবেহ এলাকায় মেভো দোতান বসতির কাছে দুজন ফিলিস্তিনিকেও মারধর করা হয়। সপ্তাহান্তজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এভাবেই চলছিল।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সহিংসতা বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে আল-মুঘাইয়েরে ২০ দিনের অবরোধের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি মানুষকে জোর করে উচ্ছেদ এবং দখলদারিত্ব বিস্তারের একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ।

এসব হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি কমাতে দেশটির রাজনীতিকেরা সমন্বিতভাবে অবস্থান নেয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুসরা ও জালুদে সংঘটিত ‘অপরাধমূলক সহিংসতার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এসব ঘটনার জন্য আইন ভঙ্গ, সেনাবাহিনীর কাজে বাধা এবং বিশ্বে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ‘কয়েকজন দাঙ্গাবাজকে’ দায়ী করেন।

তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ‘দাঙ্গাবাজদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করে’—এটি তিনি আশা করেন। তবে নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য ক্ষোভের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোশ পরা বসতি স্থাপনকারীদের খোলা পিকআপে করে কুসরা ও জালুদ গ্রামে ঢুকে হামলা চালানোর ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব দৃশ্যমান প্রমাণ এবং নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারের নির্দেশ সত্ত্বেও মোশে পিঞ্চির নেতৃত্বাধীন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পুলিশের জেলা শাখা কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও একই সুরে এসব ঘটনাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হারজগের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী পাঁচ লাখ ইসরায়েলির অধিকাংশই ‘মুষ্টিমেয় কিছু দুষ্কৃতকারীর কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত বিরক্ত’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা