নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ৪ হাজার ২১৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট বাগমতী প্রদেশের ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢল আঘাত হানে। নেপাল এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তারা অনুদান চাইছে না; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ পাওয়াকে নিজেদের অধিকার মনে করছে নেপাল।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সীমান্তসংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং পাথর-বরফের ধস থেকেই ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী। এই অর্থ দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
এরই মধ্যে জরুরি সহায়তার জন্য জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আবেদন করেছে কাঠমান্ডু।
এদিকে হিমালয় অঞ্চলে চীন ও ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিজেদের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল।












